BDhelthnews: 
যে সব রাসয়নিক দ্রব্য শরীরের কলা (Tissue)ও প্রাণীর জৈব-রাসায়নিক বা শরীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার পরিবর্তন করে তাকে মাদক বলে। অর্থাৎ যে দ্রব্য শরীরে প্রবেশ করালে শারীরিক ক্রিয়ার পরিবর্তন ঘটে তাই মাদক। প্রচলিত ভাবে মাদক বলতে বুঝায়, চিকিৎসা ব্যতীত বিনোদন বা অন্য কারণে যখন ক্রমাগত ও মাত্রাধিক কোনো মাদকস সেবন চলে তখনই তাকে বলা হয় (Drug addiction) মাদকের অপব্যবহার।

ব্যক্তির ওপর মাদকের প্রতিক্রিয়ার ফলে শরীর-মনে এমন সব প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় যখন সেই ব্যক্তি অবিরামভাবে অথবা কিছু দিন পরপর সেই মাদকের ব্যবহার করতেবাধ্য হয়; আর এ অবস্থাকেই বলা হয় (Drug Dependence) মাদকে নির্ভরতা। মোট কথা মাদকদ্রব্য ব্যবহারের ক্ষতি ও ঝুঁকি জানা সত্তেও মাদকের ব্যপক ব্যবহারকে মাদকাসক্তি বলে।
www.bdhelthnews.blogspot.com
মাদকাসক্তি একটি অনিরাময়যোগ্য রোগ। ডায়াবেটিস বা উচ্চরক্তচাপের মতো আসক্তি সম্পূর্ণ নির্মূল করা যায় না তবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। মাদকাসক্তির ফলে মস্তিষ্কে সুস্পষ্ট পরিবর্তন দেখাদেয় যা মাদক ব্যবহার ছেড়ে দিলেও অনেক সময় পর্যন্ত বজায় থাকতে পারে। মাদকাসক্ত রোগী চাইলেই সহজে মাদক ছেড়ে দিতে পারে না। মাদকের চিকিৎসা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় চিকিৎসকদের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যরদের পাশে থাকতে হবে। রোগীকে সুস্থ ও স্বাভাবিক পরিবেশ উপহার দিতে হবে। লিখেছেন ডা. কাজী লুৎফুল কবীর

মাদকাসক্তি রোগ নির্ণয়ের মানদন্ড:
প্রথমেই আলচনা করছি মাদকসেবী রোগী কোন পর্যায়ে পৌছালে তাকে আমরা মাদকাসক্ত বলি। এ ব্যপারে বিশ্ব স্বাস্থ সংস্থা (WHO) মাদকাসক্তি রোগ নির্ণয়ের কিছু মানদন্ড দিয়েছেন। সেগুলো হলো-

১. মাদকদ্রব্য গ্রহণের জন্য তীব্র আকাঙ্খা।
২. মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পরে।
৩. ক্ষতিকর পরিণতি সত্ত্বেও এ ব্যবহার অব্যহত রাখা।
৪. মাদকদ্রব্য ব্যবহারকে অন্যান্য কাজ বা দায়িত্ব থেকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া।
৫. সহনশীলতা (Tolerance) বৃদ্ধি।
৬. প্রত্যাহারজনিত শারীরিক অবস্থা (মাঝে-মাঝে)।
কোন মাদকসেবী ব্যক্তির মধ্যে যদি এসব প্রবণতা দেখা দেয় তখন তাকে মাদকাসক্তি রোগী বলে থাকি। আর মাদকাসক্তি রোগীকে দ্রুত চিকিৎসাদিতে হবে। নইলে রোগী বড় ধরণের ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। www.bdhelthnrws.blogspot.com

মাদক গ্রহণের পদ্ধতি:
(Drug-taking Methods) আমাদের দেশে বেশ কিছু উপায়ে মাদক সেবন বা গ্রহণ করা হয়। সেগুলো হলো-
১. গণাধ:করণ বা গিলে (Swallowing)।
২. নাকদিয়ে গ্রহণ (Snorting)।
৩. ধুমপান (Smoking)।
৪. শ্বাসের মাধ্যমে ধোয়া গ্রহণ (Inhaling Fumes)।
৫. মাংশপেশীতে ইনজেকশনের মাধ্যমে (Intermuscular Injection. IM)।
৬. চামরার নীচে ইনজেকশনের মাধ্যমে (Subcutaneous Injection. SC)।
৭. শিরায় ইনজেকশনের মাধ্যমে (Intravenous Injection. IV)।
৮. স্থানিক (Topical)।
৯. জিহ্বার নীচে (Sublingual)।

মাদকদ্রব্য ব্যবহারের পর্যায় (Progression of Use):

পরীক্ষা বা বিনদোনমূলক ব্যবহার (Experimental/Recreational Use)।
ঘটনা চক্রে বা মাঝে মাঝে ব্যবহার (Circumstantial/ Occasional Use)।
নিবিড় বা নিয়মিত ব্যবহার (Intensified/Regular Use)।
বাধ্যতা বা আসক্তিমূলক ব্যবহার (Compulsive/Addictive Use)।

মানুষ কেন মাদকদ্রব্য ব্যবহার শুরু করে:
মানুষ বিভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে মাদক সেবন শুরু করতে পারে। যেমন-
• কৌতুহলবসত
• যেহেতু বন্ধুরা এটা ব্যবহার করছে।
• ভালো অনুভব করতে; উদযাপন করতে।
• অধিকতর ভালো অনুভব করতে।
• চিন্তা চেতনাকে হালকা করতে।
• কষ্ট বা ক্ষোভ ভুলে থাকতে।
• ব্যর্থতা বা বিরহ দূর করতে।

মাদকআসক্ত রোগীর শারীরিক উপসর্গ:
যারা পুনঃপুন মাদক ব্যবহারের ফলে এক প্রকার শারীরিক নির্ভরতা অবস্থার সৃষ্টি হয় আর যখন ওই মাদক গ্রহণ বন্ধ করে দেয়া হয় তা যন্ত্রণাদায়ক শারীরিক লক্ষণ ও উপসর্গ প্রকাশ করে, একে বলা হয় উইথড্রয়াল সিম্পটম। আর মাদরে ভিন্নতার কারণে এর লক্ষণও ভিন্ন ভিন্ন হয়।
অ্যালকোহল বা মদে আসক্ত হবার পর মদ্যপায়ী মদপান হঠাৎ করে বন্ধ করে দিলে তার মধ্যে দেখা দেয় বিভিন্ন উপসর্গ, এগুলো হলো-
১.বমি করা।
২. বমি বমি ভাব।
৩. বিরক্তি পকাশ করা।
৪. রাগ প্রকাশ করা।
৫. দুর্বলতা লক্ষ করা।
৬. ঘুম না আসা।
৭. অস্থিরতা দেখা দেওয়া।
৮. বিষণ্মতা দেখা দেওয়া।
হতাশাহতাশাকখনো এসব লক্ষণ বা উপসর্গ অল্পমাত্রায় থাকে, আর কখনো বেশি মাত্রায় হলে প্রলাপের অবস্থাও সৃষ্টি করতে পারে। এ সময় দেখা দিতে পারে-
অমূল প্রত্যক্ষ বা হ্যালুসিনেশন।
আতঙ্ক বা ফোরিয়া।
ভ্রান্ত বিশ্বাস বা ডিল্যুশন।
স্থান-কাল-পাত্রের জ্ঞান লোপ পায়।
এরকম অবস্থায় দ্রুত চিকিৎসা না করা হলে জীবন বিপন্ন হতে পারে।
হেরোইন আসক্তি হয়েছে এমন রোগী যখন কোনো কারণে হেরোইন খাওয়া বন্ধ করে দেয় তখন তার মধে দেখা দেয়-
·অস্থিরতা।
·মাংসপেশী ব্যাথা।
·গিরায় গিরায় ও হাড়ে মারাত্মক ব্যাথা।
·মাংসপেশীর সংকোচন।
·মাত্রাতিরিক্ত ঘাম নিঃসরণ।
·নাক থেকে অবিরাম পানি ঝরা বা সর্দি লাগা।
·নাড়িগতি বৃদ্ধি।

·কাশি ও হাই তোলা।

0 comments:

Post a Comment

Ads Inside Post

Flickr User ID

Comments system

Disqus Shortname

 
Top